বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজের একটি চরম সত্য ও বাস্তবতা প্রতিদিনই চোখের সামনে দৃশ্যমান—ন্যায়বিচার যখন দল, মত ও সুবিধাবাদের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, তখন তা আর ন্যায় থাকে না; বরং অন্যায়েরই আরেক রূপ হয়ে দাঁড়ায়।
এই বাস্তবতায় দেশের প্রবীণ বা সিনিয়র সিটিজেনদের নিরাপত্তা, সম্মান ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি আজ আর কোনো বিশেষ গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। এটি সমাজের প্রতিটি স্তরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
জীবনের শেষভাগে এসে অনেক প্রবীণ মানুষ নিজ পরিবারেই অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসার অভাবের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের মতামত প্রকাশের অধিকারও সংকুচিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে গণপরিবহন, চিকিৎসাসেবা এবং সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে গিয়ে প্রবীণদের নানা ধরনের ভোগান্তি ও অনাদরের শিকার হতে হয়। প্রান্তিক ও অসহায় প্রবীণদের বাস্তবতা আরও কঠিন।
প্রবীণ নারীদের ক্ষেত্রে এই বঞ্চনা আরও প্রকট। বিশেষ করে বিধবা ও একক নারীরা সম্পদ বণ্টন, পারিবারিক সিদ্ধান্ত এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনে নানা ধরনের চাপ ও নির্যাতনের মুখোমুখি হন।
সামাজিক অবক্ষয়ের আরেকটি উদ্বেগজনক দিক দেখা যায় রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে। আদর্শিক বা রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে একজন প্রবীণ নাগরিককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করা কোনোভাবেই সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কিংবা প্রতিপক্ষের ওপর সহিংসতায় আনন্দ পাওয়া—কোনোটিই সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ নয়।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে; কিন্তু একজন প্রবীণ নাগরিকের শারীরিক ও মানসিক মর্যাদা রক্ষা করা কোনো দয়া নয়—এটি তাঁর মৌলিক মানবাধিকার।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব আইনের শাসন নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজকেও প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কি সত্যিই সবার জন্য ন্যায়বিচার চাই, নাকি কেবল নিজেদের পক্ষের মানুষের জন্য?
প্রবীণের প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও সভ্য সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুদৃঢ় হবে।
লেখক ও প্রতিবেদক : banglarroop
মন্তব্য করুন