বন্দরনগরী চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোরহস্তে দমনে বিশাল সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটককরেছে জেলা পুলিশ।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থানসহ কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গায় এ অভিযান চালানো হয়।

পুলিশ জানায়, অভিযানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকার মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।

অপরদিকে, অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়েছে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল বলেন, অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্তানরা কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরছে কি না, সেদিকে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে বলা হয়। পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি করতে এবং তাদের মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে শুধু পুলিশের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

Facebook Comments Box