শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে এবং সব ধরনের অনিয়ম ও কারসাজি শনাক্তে পুঁজিবাজারকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেও প্রায়ই জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত করতে না পারার বিষয়টি উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ অডিটরিয়ামে ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সচিব নাজমা মোবারেক এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

অনুষ্ঠানে বিএসইসি কমিশনাররাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুঁজিবাজারের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা।’

সচিব বলেন, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলকে (এফআরসি) আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাজারের ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে।

তিনি বলেন, গত ১৬-১৭ বছরে দেশের আর্থিক খাতের দূর অবস্থার পেছনে নিরীক্ষকদেরও ভূমিকা রয়েছে। নিরীক্ষা প্রতিবেদনের মান নিশ্চিত করা এবং নিরীক্ষকদের রিপোর্টিংয়ের মানদণ্ড তদারকির দায়িত্ব এফআরসির। তাই আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংস্থাটিকে আরো কার্যকর করতে হবে।

নাজমা মোবারেক বলেন, শেয়ারবাজারে কারসাজি ও প্রতারণা শনাক্ত করতে নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা গেলে অনেক অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এতে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা সহজ হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ (ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টর উইক) কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। বরং এটিকে নিয়মিত বিনিয়োগকারী সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত অনলাইনে আর্থিক সাক্ষরতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, রেগুলার ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি মানুষকে দেওয়া দরকার। আমরা মনে করি এই সার্ভেলেন্স সিস্টেমও যদি মডার্নাইজ করা যায়, আমরা কিন্তু অনেক ফ্রড ডিটেক্ট করতে পারব, দুর্নীতিবাজদের ধরতে পারব এবং এভাবেই শেয়ারবাজারকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।

Facebook Comments Box