কড়া পুলিশি পাহারা এবং নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেফতার গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে আদালতে তোলা হয়েছে।। আদালত প্রাঙ্গণে তাদের নিয়ে আসার পর থেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়।

 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ১২ মিনিটে তাদের ঢাকার আদালতে এজলাসে হাজির করে পুলিশ। এর আগে আদালতের হাজতখানা থেকে পুলিশি পাহাড়ায় তাদের আদালতে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় এই দুজনের সাতদিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকার আদালতে রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে রিমান্ডের পক্ষে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের আবেদনে বলা হয়েছে, মরিয়মের মৃত্যুর সময় গাজী নজরুল ও মাকসুদা একই বাসায় অবস্থান করছিলেন। তাই ওই সময় তাদের অবস্থান, ভূমিকা এবং মরিয়মের মৃত্যুর সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মানসিক চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা আত্মহত্যায় সহায়তার অভিযোগের বিষয়ে আসামিদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামি মো. ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা এবং তার অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের বিষয়েও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।

এছাড়া এ ঘটনায় অন্য কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি জড়িত ছিলেন কি না, থাকলে তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্যও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবশেষে মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

যেভাবে মরিয়মের মৃত্যু

মামলার এজাহার ও পুলিশি আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন (১৯) মামলার বাদীর বড় মেয়ে। বাদী পেশায় মুদি দোকানি। চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, বিয়ের পর মরিয়ম গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদার সঙ্গে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে থাকতেন।

মরিয়মের বাবা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গাজী নজরুল ও মাকসুদা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। বিভিন্ন সময়ে ফোনে মেয়েটি তাকে এসব বিষয় জানিয়েছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি তার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ন্যাম ভবনে যান।

সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে মরিয়মের মরদেহ ঝুলছে। কক্ষটির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট গিয়ে দরজা খুলে মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, মরিয়মের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া যায়। স্থানীয়দের কাছ থেকে তার বাবা জানতে পারেন, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে কোনো একসময় মরিয়ম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। ২১ সেপ্টেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। এতে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অপর আসামি মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমান পলাতক।
বিজ্ঞাপন

পুলিশ বলছে, মামলাটি তদন্তাধীন। মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ এবং মামলায় উল্লেখ করা অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Facebook Comments Box