বিগত ১৭ বছরে দেশের পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করা হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, রাজনৈতিক হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে দেশের শিক্ষা খাত ও পাঠ্যপুস্তককে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু বড় বড় ভবন বা অবকাঠামো গড়ে তুললেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয় না, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবে শিক্ষা জীবন থেকে ঝরে না পড়ে, সেদিকেও কড়া নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জন করায় কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১১৪ জন শিক্ষার্থীকে ক্রেস্ট ও ৫ হাজার টাকা করে বৃত্তি দিতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, কৃতি শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত ভালো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, শিক্ষা যে একটি জাতির জন্য কতটা জরুরি, অতীতে সেটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। বিগত ১৭ বছর ধরে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করা হয়েছে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার প্রবণতা তৈরি করে সে সময়ে জাতির মানবীয় মেরুদণ্ডকে ‘প্লাস্টিক মেরুদণ্ডে’ পরিণত করা হয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আমাদের শিক্ষার্থীরা অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।

বর্তমান সরকারের শিক্ষা ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, এখন আর কোনো স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম নয় বরং মেধার ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

নারী শিক্ষার প্রসারে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিগগির বিএ অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।

Facebook Comments Box