দেশের গ্যাসসংকটের মধ্যে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। প্রাথমিকভাবে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ৫০–৭০ লাখ ঘনফুট (৫–৭ MMcf) গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা দেখা গেছে।
বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কূপটির খনন শুরু হয়। প্রায় ১,৫৭৮ মিটার গভীরতায় গিয়ে গ্যাসসমৃদ্ধ স্তর শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে কূপটির প্রকৃত উৎপাদনক্ষমতা ও মজুত নির্ধারণে Drill Stem Test (DST) চলছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই বাণিজ্যিক উৎপাদনের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
সুন্দলপুর-৪ একই ভূগর্ভস্থ গ্যাস কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত, যেখানে সুন্দলপুর-১, ২ ও ৩ কূপ রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দলপুর-২ থেকে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
বাণিজ্যিক উৎপাদন নিশ্চিত হলে সুন্দলপুর-৪-এর গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই গ্যাস দেশের শিল্প, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে সরবরাহ ঘাটতি কমাতে কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
বাংলাদেশে বর্তমানে গ্যাসের চাহিদা দেশীয় উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি। ঘাটতি পূরণে দেশীয় গ্যাসের পাশাপাশি আমদানিকৃত LNG বা RLNG ব্যবহার করতে হচ্ছে। তাই নতুন গ্যাসক্ষেত্র ও কূপ অনুসন্ধান জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুন্দলপুর-৪-এর পাশাপাশি সুন্দলপুর সাউথ-১ ও জামালপুর-১ অনুসন্ধান কূপ এবং অন্যান্য নতুন কূপ খননের উদ্যোগও রয়েছে। একই সঙ্গে পুরোনো কূপের পুনর্মূল্যায়ন ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সুন্দলপুর-৪ একাই দেশের গ্যাসঘাটতি দূর করবে না; তবে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানো, LNG-নির্ভরতা কমানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে ।।
মন্তব্য করুন