চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরবাসীকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরীর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চসিকের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন মূল লক্ষ্য। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই তিন মাসের কর্মসূচি সফল করতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশে যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।

এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে নগরবাসীকে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশে কোথাও পানি জমে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালগুলোতে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গুরোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সেই তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চসিকের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে।

নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box