পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং প্রতিটি খরচে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে প্রস্তুত। তবে জনগণের করের অর্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই বরাদ্দের প্রতিটি টাকা প্রয়োজনের ভিত্তিতে, যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।

ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘‘উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা এবং তাদের দেশ-বিদেশের কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে ইউজিসি বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হবে। রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেট মিলিয়ে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, ভবিষ্যতে তার চেয়েও বেশি অর্থের প্রয়োজন হতে পারে।’’

তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর চাহিদা অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অর্থের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা এবং তা যথাযথভাবে ব্যয় করার সক্ষমতা বিবেচনায় নিতে হবে। একইভাবে নতুন জনবলের চাহিদার ক্ষেত্রেও যথাযথ প্রয়োজন নিরূপণ ও যৌক্তিকতা যাচাই করা প্রয়োজন।’’

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের মূল্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, ‘‘কোনও অর্থ বা জনবলের চাহিদা উত্থাপনের আগে এর প্রকৃত প্রয়োজন যথাযথভাবে নিরূপণ করতে হবে। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ বা অনুমোদন পাওয়ার পরও যদি তা নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে সেই চাহিদার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাই পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি।’’

ইউজিসির দায়িত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অর্থায়ন করে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা ও স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন রেখে সরকারি অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করা ইউজিসির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ মূলত জনগণের করের অর্থ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এই অর্থ যথাযথ খাতে, প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে— এমন আস্থা জনগণ ও সরকারের মধ্যে তৈরি করতে হবে। সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের অস্বচ্ছতা গ্রহণযোগ্য নয়।’’

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘‘দেশের উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে সরকার ও ইউজিসির পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।’’

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন, অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান খান ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসির সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইউজিসির অর্থ, হিসাব ও বাজেট বিভাগের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় দেশের ২৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

Facebook Comments Box