চট্টগ্রামের মাটি থেকে শুরু হওয়া স্বপ্ন আজ পৌঁছেছে জার্মানির অত্যাধুনিক গবেষণাগারে। ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব বিমান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন চট্টগ্রামের মেয়ে দেবযানী ঘোষ।

১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে জন্ম নেওয়া দেবযানী অপর্ণাচরণ উচ্চবিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়াশোনা শেষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। ২০০৬–২০১০ সালের চুয়েটজীবনে অর্জিত জ্ঞান তাঁকে পরবর্তী সময়ে বিশেষায়িত গবেষণার পথে এগিয়ে নেয়।

স্নাতক শেষে জার্মানিতে পাড়ি জমান তিনি। ২০১১–২০১৫ সাল পর্যন্ত ইলেকট্রিক্যাল পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৩ সালে ইন্টার্ন হিসেবে কাজের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন প্রযুক্তিতে তাঁর গবেষণার আগ্রহ আরও গভীর হয়।

✈️ HY4 প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

জার্মানির Institute of Energy Conversion and Storage-এ কাজ করার সময় দেবযানী যুক্ত হন HY4 প্রকল্পে। এটি হাইড্রোজেন ফুয়েল-সেলচালিত চার আসনের যাত্রীবাহী বিমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জার্মানির স্টুটগার্ট বিমানবন্দর থেকে HY4-এর সফল প্রথম উড্ডয়ন বিমান প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করে।

এই প্রকল্পে দেবযানী কাজ করেন বিমানের বিদ্যুৎশক্তি ব্যবস্থাপনা ও পাওয়ার ইলেকট্রনিকস নিয়ে। ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কীভাবে দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ ও রূপান্তরের মাধ্যমে বিমানের চালনা ব্যবস্থায় ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও তাঁর গবেষণা রয়েছে।

বর্তমানে তিনি জার্মানির H2FLY-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে কাজ করছেন। পরিবেশবান্ধব বিমান চলাচলের ভবিষ্যৎ নির্মাণে হাইড্রোজেন ও ফুয়েল-সেল প্রযুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

🌍 চট্টগ্রাম থেকে ভবিষ্যতের আকাশ

চট্টগ্রাম → চুয়েট → জার্মানি → আন্তর্জাতিক গবেষণা → হাইড্রোজেন-ইলেকট্রিক বিমান।

দেবযানী ঘোষের পথচলা শুধু একজন প্রকৌশলীর সাফল্যের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের তরুণদের জন্যও অনুপ্রেরণার। জ্ঞান, অধ্যবসায় ও গবেষণার মাধ্যমে দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও বিশ্বমানের প্রযুক্তি গবেষণায় জায়গা করে নেওয়া সম্ভব—তাঁর যাত্রা তারই উদাহরণ।

চট্টগ্রামের এই তরুণ গবেষকের জন্য banglarroop-এর পক্ষ থেকে রইল আন্তরিক শুভকামনা।

Facebook Comments Box